মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

News Headline :
রাজশাহী সীমান্তে বিপুল ভারতীয় মদ জব্দ বদলগাছীতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ তৈরির বিভিন্ন রকম উপকরণ জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়েছে রংপুর কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারের অপসারণ সহ  সাংবাদিকদের নিরাপত্তা  নিশ্চিতের দাবি  কিশোরগঞ্জে বালুবাহী মাহেন্দ্র ট্রলির ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত, ছেলে গুরুতর আহত নারীদের অহংকার এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা; রাজপথ পেরিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের দিকে পাবনা আরএম একাডেমির ৯০ ব্যাচের সকল প্রয়াত বন্ধুর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজশাহী সীমান্তে ভারতীয় মদ ও বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ রাজশাহীতে নকল স্টার সিগারেটের বড় চালান জব্দ, গ্রেফতার ১

বাংলাদেশে নাবালিকা ধর্ষণ: একটি পর্যালোচনা

বাংলাদেশে নাবালিকা ধর্ষণ: একটি পর্যালোচনা

Reading Time: 2 minutes

বাংলাদেশে নাবালিকা ধর্ষণ: একটি পর্যালোচনা

নাবালিকা ধর্ষণ বাংলাদেশে একটি গুরুতর সামাজিক ও মানবাধিকার সংকট, যা শুধুমাত্র নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সমাজের সার্বিক নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন ঘটায়।
১. বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান-বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বেশ কিছু আইন ও নীতি থাকলেও, নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর শত শত নাবালিকা ধর্ষণের শিকার হয়। আসকের (আাইন ও সালিশ কেন্দ্র) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনায় বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৭০% কিশোরী কোনো না কোনোভাবে যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এ ছাড়াও, অনেক ধর্ষণের ঘটনা লোকলজ্জা, সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণে অপ্রকাশিত থেকে যায়, যা প্রকৃত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
২. নাবালিকা ধর্ষণের কারণসমূহ
নাবালিকা ধর্ষণের পেছনে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনি দুর্বলতা দায়ী। কিছু প্রধান কারণ হলো: (ক) সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি
সমাজে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব (খ) আইন ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা
বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা পুলিশি তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলা ধর্ষণের শিকার নাবালিকার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন (গ) পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব গরিব ও পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো সামাজিক লজ্জার ভয়ে মামলা করতে চায় না অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিচিত বা নিকটাত্মীয়রাই অপরাধী হয়
(ঘ) প্রযুক্তি ও মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব পর্নোগ্রাফি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীলতার সহজলভ্যতা ধর্ষণকে মহিমান্বিত করে এমন কিছু চলচ্চিত্র ও নাটক
৩. আইন ও শাস্তির বর্তমান কাঠামো বাংলাদেশে নাবালিকা ধর্ষণ রোধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন রয়েছে:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)
ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি: মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড গণধর্ষণের শাস্তি: মৃত্যুদণ্ড
ধর্ষণের শিকার শিশু বা নারীর আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড
পক্সো আইন (প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট)
শিশুদের যৌন নির্যাতন রোধের জন্য একটি বিশেষ আইন অপরাধী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি
দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০
১৮ বছরের নিচে কোনো কিশোরী যদি সম্মতিও দেয়, তবুও তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে।
আইন কঠোর হলেও বাস্তবায়নের অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।
৪. নাবালিকা ধর্ষণের প্রভাব
নাবালিকা ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়।
(ক) শারীরিক প্রভাব গুরুতর শারীরিক আঘাত অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি
যৌনবাহিত রোগ সংক্রমণ (খ) মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ট্রমা ও মানসিক অবসাদ
আত্মহত্যার প্রবণতা আতঙ্ক ও আস্থার সংকট (গ) সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব
ধর্ষণের শিকার মেয়েদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য বিয়ে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ৫. প্রতিরোধ ও করণীয়
নাবালিকা ধর্ষণ প্রতিরোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
(ক) কঠোর আইন প্রয়োগ, ধর্ষণের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা ধর্ষণের মামলায় সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দেওয়া নারী ও শিশু সুরক্ষা হটলাইন কার্যকর করা (খ) সচেতনতা বৃদ্ধি স্কুল-কলেজে যৌন শিক্ষা ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে ধর্ষণের বিরুদ্ধে জনমত গঠন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা (গ) প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার
শিশুদের জন্য অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পর্নোগ্রাফি ও অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ (ঘ) পারিবারিক ও সামাজিক উদ্যোগ বাবা-মায়ের সন্তানদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা মেয়েদের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ দেওয়া কমিউনিটি পর্যায়ে ধর্ষণ প্রতিরোধ কমিটি গঠন
বাংলাদেশে নাবালিকা ধর্ষণ একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা যা প্রতিরোধে কেবল আইনের কঠোরতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামগ্রিক সামাজিক পরিবর্তন। বিচারব্যবস্থার দ্রুততা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীলতা—এসব মিলিয়ে একটি নিরাপদ সমাজ গঠন করা সম্ভব। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

লেখক- বাদল আহমেদ, সুইডেন|

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com